রোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

নওগাঁয় এনসিডি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

নওগাঁ জেলায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়ে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডি কর্মসূচি এবং National Heart Foundation of Bangladesh-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি এবং হৃদরোগসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. শামীম জুবায়ের,
ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অফিসার খোন্দকার এহসানুল আমিন ইমন এবং সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. রাজত চৌধুরী সায়েমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিভিল সার্জন বলেন, দেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যুহার কমানো, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং লবণ গ্রহণ কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
এর অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এনসিডি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ১০টি এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে ২০ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত রোগী নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন।

রোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে রক্তচাপ পরিমাপ ও রোগী মনিটরিং।

আধুনিক ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে রক্তচাপ পরিমাপ এবং ‘সিম্পল অ্যাপস’-এর মাধ্যমে রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও মনিটরিং করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যা একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ।
ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ—এসব কারণ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর একটি বড় অংশও এই রোগগুলোর কারণে হয়ে থাকে।
এই কর্মশালায় ৪৮তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসাররা অংশগ্রহণ করছেন।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে এনসিডি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং রোগী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এতে করে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনসাধারণ উন্নত সেবা পাবে।
সব মিলিয়ে, নওগাঁয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে,
যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

By Borsha