টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনা

টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচজন পোশাক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে

যা পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কয়েকটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিহতদের একজন সুলতান। মৃত্যুর আগে মুঠোফোনে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথাটি ছিল—“আগামী মাসের ৭ তারিখ বেতন পাব, তারপর তোরে আর তোর মারে আমার কাছে নিয়ে আসুম।” এই কথাই এখন তার পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে গভীর বেদনার স্মৃতি।

জানা গেছে, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূর্ব নিজপাড়া গ্রামের কয়েকজন পোশাক শ্রমিক বনশ্রী পরিবহনের একটি রিজার্ভ বাসে করে টাঙ্গাইলের গোড়াই শিল্প এলাকায় ফিরছিলেন। যমুনা সেতু পার হওয়ার পর কালিহাতীর ধলাটেঙ্গুর এলাকায় গিয়ে বাসটির জ্বালানি তেল হঠাৎ শেষ হয়ে যায়।

বাসটি সড়কের পাশে থেমে গেলে চালকের সহকারী তেল আনতে চলে যান। এসময় গরমে অতিষ্ঠ যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পাশের রেললাইনে গিয়ে বসেন। অন্ধকার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি এসে পড়লেও সড়কের যানবাহনের শব্দে তারা ট্রেনের আগমন টের পাননি।

এই টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনায় চোখের নিমেষে ট্রেনের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা-ছেলেসহ স্বজনরাও রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনা

নিহত সবাই মির্জাপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার ভোরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়।

এই টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বাসের চালক ও সহকারীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করলেও চালক ও সহকারী এখনও পলাতক রয়েছেন।

একটি বাসের তেলের অভাব কীভাবে পাঁচটি পরিবারের স্বপ্ন চূর্ণ করে দিল—এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে ঘুরছে। এই টাঙ্গাইল ট্রেন দুর্ঘটনা আবারও সড়ক ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

SEE MORE>>>

নওগাঁ সীমান্তে কষ্টি পাথরের দুষ্প্রাপ্য মূর্তি উদ্ধার, পালাল চোরাকারবারী

Comments are closed.