শরীয়তপুর স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ , ফেসবুকে দায় স্বীকার রাজনৈতিক নেতার

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

শরীয়তপুর স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ , শরীয়তপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাতের আঁধারে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক ঘটনা, যা নতুন করে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টায় অগ্নিসংযোগের মতো চরম কর্মকাণ্ড শুধু একটি স্থাপনায় হামলা নয়, বরং ইতিহাস ও আবেগের ওপর আঘাত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মাত্র ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন, যা মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। ঘটনাটি আরও বেশি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে যখন ভিডিওটি শেয়ার করে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর দাবি করেন, এই কাজ তাদের নেতা-কর্মীরাই করেছেন। এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক একটি দৃষ্টান্ত।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত ওই স্মৃতিস্তম্ভে ছুটে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় যুব শক্তির নেতা-কর্মীরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা স্মৃতিস্তম্ভের মাঝ বরাবর চারটি স্থানে পোড়া দাগ দেখতে পান।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়েই নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা এমন দুঃসাহস দেখিয়েছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার না করলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানিয়েছেন, ভিডিওটি ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাও হতে পারে; এর পেছনে থাকতে পারে পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা। তাই শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিই এখন সময়ের দাবি।

SEE MORE>>> https://www.facebook.com/share/p/18GmdXz6Sk/