বগুড়ায় নষ্ট ডিম দিয়ে বেকারি পণ্য

বগুড়ার বেকারিতে নষ্ট ডিম ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

বগুড়ায় নষ্ট ডিম দিয়ে বেকারি পণ্য তৈরি করাই খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক অভিযানে নষ্ট ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করে বেকারি পণ্য তৈরির গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই কার্যক্রমের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর উপজেলার বারোপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযানটি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য প্রস্তুতে অননুমোদিত এবং অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করছিল, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
অভিযানে আরও উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। নষ্ট ও ফোটেনি এমন ডিম সংরক্ষণ করে সেগুলো দিয়ে কেক,
বিস্কুট এবং পাউরুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। এসব ডিম পলিথিনে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছিল ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য।
খাদ্য তৈরির পরিবেশও ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর, যা খাদ্য নিরাপত্তা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বগুড়ায় নষ্ট ডিম দিয়ে বেকারি পণ্য তৈরি বাজারজাতের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ।

এছাড়া তদন্তে দেখা যায়, কিছু পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাকেট ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছিল, যা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
এ ধরনের কার্যক্রম বাজার ব্যবস্থায় আস্থা নষ্ট করে এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে।
প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় জব্দ করা নষ্ট ডিম জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা পুনরায় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এতে বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হলে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের কঠোর নজরদারি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

By Borsha