বন্ধ কক্ষ থেকে রাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উন্মোচনে তদন্তে পুলিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ নগরীর মতিহার থানার আমজাদের মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বুধবার (১০ জুন) বিকালে আয়েশা টাওয়ার নামের ছাত্রাবাস থেকে মাহফুজুর রহমান (২৩) নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে।

মাহফুজুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে তিনি তার কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

একপর্যায়ে তার খোঁজ নিতে গিয়ে সহপাঠীরা কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না মেলায় তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন।

পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে মাহফুজুর রহমানকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার,ব্যক্তিগত কারণে মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি সহপাঠীদের

সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মাহফুজুর রহমান কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া কক্ষ থেকে কোনো লিখিত বার্তাও উদ্ধার হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবীর জানান, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।