যুক্তরাজ্যে আইএলআর পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যে আইএলআর পরিবর্তন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী ও অভিবাসীরা

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে আইএলআর পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীদের মধ্যে। প্রস্তাবিত নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ মডেল কার্যকর হলে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ আগের তুলনায় দীর্ঘ হতে পারে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

যুক্তরাজ্যে আইএলআর পরিবর্তন: বর্তমান নিয়ম ও প্রস্তাবিত পরিবর্তন

বর্তমানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসের পাঁচ বছর পর অনেক অভিবাসী আইএলআরের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় স্কিলড ওয়ার্কার এবং গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীসহ অধিকাংশ অর্থনৈতিক অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য ১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তুলনামূলক কম আয়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

নতুন নীতিতে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরতদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আইএলআরের আবেদনে নিয়মিত কর পরিশোধ, নিরবচ্ছিন্ন বৈধ বসবাস, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ডের মতো বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা আইএলআর পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বিগ্ন

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী বর্তমান পাঁচ বছরের নিয়ম অনুযায়ী আইএলআর পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, অভিবাসন নীতির পাশাপাশি স্টুডেন্ট ভিসা এবং আশ্রয় ব্যবস্থাতেও কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে আশ্রয়ের আবেদন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি চালানোর উদ্যোগ রয়েছে।

নতুন কোর প্রোটেকশন মডেলের আওতায় স্বীকৃত শরণার্থীদের প্রাথমিক সুরক্ষার মেয়াদ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এর ফলে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের স্থায়ী বসবাসের পথও আগের তুলনায় দীর্ঘ হতে পারে।

নতুন সরকারে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখাকে অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নীতিতে ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নেতৃত্বেই বৈধ অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসের নিয়মে সংস্কারের এই উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে আইএলআর পরিবর্তন, এখনও চূড়ান্ত নয় পরিবর্তন

তবে প্রস্তাবিত নতুন নীতিগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। নতুন নিয়ম বর্তমান অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, ইতোমধ্যে আইএলআরের পথে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কোনো ট্রানজিশনাল ব্যবস্থা থাকবে কি না— এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ২ লাখেরও বেশি মতামত জমা পড়েছে এই কনসালটেশনে।

ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ ব্যবস্থা কার্যকর হলে তাদের স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনায় কতটা পরিবর্তন আসবে। চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ভিমরুলের আক্রমণে বৃদ্ধের মৃত্যু, আহত ১০