বান্ধবীকে ফেলে পালিয়ে যাওয়া কথিত চীনা নাগরিক

চীনা নাগরিক পরিচয়ে বাংলাদেশে এসে বান্ধবীকে ফেলে পালাল তরুণ

নাটোরের বড়াইগ্রামে স্কুলছাত্রী সাদিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে বাংলাদেশে আসা এক কথিত চীনা নাগরিককে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন সাদিয়ার বাড়িতে অবস্থানের পর এক তরুণী এসে ওই ব্যক্তিকে নিজের স্বামী দাবি করেন। এরপর রোববার ভোরে ওই তরুণীকে ফেলে কথিত চীনা নাগরিক পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোয়ারী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটাপাড়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে স্কুলছাত্রী সাদিয়ার সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাদিয়ার বাবা ও চাচারা তাকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাদিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কথিত ওই চীনা নাগরিক নিজেকে ‘সুবেজ’ নামে পরিচয় দেন। সাদিয়ার জন্য তিনি উপহারও নিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।

খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাদিয়ার বাড়িতে স্থানীয় লোকজন ও সংবাদকর্মীরা ভিড় করেন। তবে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজের পাসপোর্ট দেখাতেও রাজি হননি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তার পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন সংবাদকর্মী গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ওই ব্যক্তির ছবি ও বাংলাদেশে আসার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদও প্রকাশিত হয়।

চীনা নাগরিক বান্ধবীকে ফেলে পালাল

স্কুলছাত্রীর বাড়িতে কয়েকদিন অবস্থানের পর স্ত্রী পরিচয়ে এক তরুণী আসতেই পালিয়ে যান কথিত ওই চীনা নাগরিক

এর মধ্যেই শনিবার রাতে ঢাকার সামিলা নামে এক তরুণী সাদিয়াদের বাড়িতে এসে দাবি করেন, ওই চীনা নাগরিক তার স্বামী। সামিলার দাবি, কিছুদিন আগে একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর ওই ব্যক্তি ঢাকায় এসে তাকে বিয়ে করেন। পরে কয়েক দিন অবস্থান করে তাকে কিছু না জানিয়েই নিজ দেশে ফিরে যান।

সামিলা জানান, পরে ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, হাতে টাকা না থাকায় তিনি বাংলাদেশে আসতে পারছেন না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাংলাদেশে আসার খবর দেখতে পেয়ে তিনি বড়াইগ্রামে চলে আসেন। সেখানে এসে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি অন্য একটি পরিবারের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে রোববার ভোরে সামিলাকে রেখে ওই কথিত চীনা নাগরিক সেখান থেকে পালিয়ে যান।

জোয়ারী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, অল্পের জন্য প্রতারণার হাত থেকে স্কুলছাত্রী সাদিয়া রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাটোর মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বিউটি বলেন, মোবাইল ফোন বা অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হলেই কাউকে হঠাৎ করে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিদেশি নাগরিকের পরিচয়, পাসপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য যাচাই না করে কোনো পরিবারকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অনলাইন পরিচয় ও বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নওগাঁ জুয়ার আসরে ১০ জন আটক