নওগাঁর আত্রাইয়ের মানসী সরকারের এসএসসি ফলাফল

প্রকৌশলী হতে চায় নওগাঁর মেধাবী শিক্ষার্থী মানসী সরকার

লক্ষ্য যখন স্পষ্ট আর পরিশ্রম যখন আন্তরিক, সাফল্য তখন সুনিশ্চিত হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি মানসী সরকারের এসএসসি ফলাফল এখন গোটা এলাকায় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মানসী সরকার তার এবারের এসএসসি ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে রেকর্ড ১২২৩ নম্বর পেয়ে সমগ্র নওগাঁ জেলায় প্রথম এবং রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মানসী নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা প্রশান্ত কুমার সরকার আত্রাই মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত, আর মা মল্লিকারানী মজুমদার মধুগুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মানসী বড়। তার ছোট ভাই অভিরূপ সরকার অঙ্কন চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

নওগাঁর আত্রাইয়ের এসএসসি কৃতী শিক্ষার্থী মানসী সরকার

মানসী সরকারের এসএসসি ফলাফল: পরিবার ও শিক্ষকের চোখে মানসীর সাফল্যের গল্প

শিক্ষিত পরিবারের এই পরিবেশ মানসীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহকে আরও গভীর করেছে বলেই মনে করা যায়, যদিও তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল নিজের একনিষ্ঠতা ও পরিশ্রম।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বুলবুল হোসেন মানসীর সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মানসী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও অনুগত একজন শিক্ষার্থী। তার এই অর্জনে কেবল পরিবার নয়, পুরো বিদ্যালয়, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী গর্বিত। তার সাফল্য প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, এ বছর প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে ৮৯ জন কৃতকার্য হয়েছে এবং মানসীসহ মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক এই ফলাফলের মধ্যেও মানসীর জেলা ও বিভাগীয় সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

প্রায় এক বছর পর আবারও চালু হলো ঢাকা-জাপান সরাসরি ফ্লাইট

মেয়ের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, মানসীকে পড়ার জন্য কখনও আলাদা করে তাগাদা দিতে হয়নি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তার নিজের মধ্যে ছিল এক ধরনের প্রবল স্বতঃস্ফূর্ততা। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই যেখানে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, মানসী ছিল তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। জরুরি তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানার প্রয়োজন না হলে সে অহেতুক মোবাইল হাতে নিত না।

শুধু পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না মানসীর দায়িত্ববোধ। পড়াশোনার পাশাপাশি সে নিয়মিত তার মাকে সাংসারিক কাজেও সাহায্য করত। বাবার ভাষায়,মানসী সরকারের এসএসসি ফলাফল নওগাঁর শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

নিজের সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মানসী সরকার বলে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করে পড়াশোনা করা। বাবা-মা, শিক্ষক কিংবা আত্মীয়স্বজনের চাপে পড়ে নয়, বরং জানার প্রকৃত আগ্রহ নিয়েই পড়াশোনা করতে হবে। তার মতে, শিক্ষকদের সঠিক নির্দেশনা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমই ভালো ফলাফলের মূল চাবিকাঠি।

মানসী আরও জানায়, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একজন প্রকৌশলী হওয়া এবং দেশের মানুষের সেবা করা। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সে সেই স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পেরেছে বলে মন্তব্য করে। ভবিষ্যতে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে পারার জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছে সে।

মানসী সরকারের এসএসসি ফলাফল শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং লক্ষ্যভিত্তিক পরিশ্রম আর একনিষ্ঠতার একটি বাস্তব উদাহরণ। পরিবার, শিক্ষক এবং নিজের প্রচেষ্টার মেলবন্ধনে গড়া এই সাফল্য নওগাঁর শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রকৌশলী হয়ে দেশের সেবা করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা মানসী সরকারের এই যাত্রা আগামী দিনে আরও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাক, এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।