বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থা

আশ্রয়হীন ৮ মা-শিশুকে নতুন ঠিকানা দিল বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থা

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হঠাৎ করে আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া আট মা ও শিশুকে নতুন করে আশ্রয় দিয়েছে নওগাঁর বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থা। শুক্রবার ১৪ আগস্ট সকাল ১০টায় তারা বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থায় এসে আশ্রয় নেন। হঠাৎ আশ্রয়হীন হয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য এই উদ্যোগ হয়ে উঠেছে এক বড় স্বস্তির খবর।

নওগাঁর বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থায় আশ্রয় নেওয়া মা ও শিশুরা

হঠাৎ আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে আট মা-শিশু, নতুন আশ্রয় দিল নওগাঁর বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থা

আশ্রয় নেওয়া আটজনের মধ্যে রয়েছে পাঁচ শিশু, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রবীণ মা এবং দুইজন মাঝবয়সী নারী। এর আগে তারা বগুড়ার আদমদীঘির একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন। তবে হঠাৎ করে ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে পড়েন বিপাকে।

বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৬ আগস্ট এক নারী ফোন করে জানান, আদমদীঘির ওই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অসহায় মা ও শিশুদের আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে বলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আশ্রয়হীন মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

আরও পড়ুন

সার বিতরণে বড় সংস্কার, জ্বালানি সংকটে সংসদীয় কমিটি গঠন

পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও একসঙ্গে আটজন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ায় সংস্থাটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে, তবুও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

‘বেলাশেষে’ আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাসলিমা ফেরদৌস জানান, হঠাৎ করে আটজন মানুষ বাড়তি হওয়ায় তাদের কষ্ট হবে, এটা সত্য। তবুও তারা বিশ্বাস করেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ এবং তাদের রিজিকও আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসবে। এই বিশ্বাস থেকেই সংস্থাটি কোনো দ্বিধা না করে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে সমাজের হৃদয়বান ও মানবিক মানুষের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যার যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে সম্মিলিতভাবেই মানবতার কল্যাণে কাজ করা সম্ভব। একক প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের সকলের সম্মিলিত সহায়তাই এই ধরনের মানবিক উদ্যোগকে টেকসই করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বেলাশেষে সমাজ কল্যাণ সংস্থার এই উদ্যোগে নতুন করে আশ্রয় পাওয়া মানুষগুলোর মুখে স্বস্তি ফিরেছে। আশ্রয়হীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নওগাঁর এই সংস্থার মানবিক এই দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।