বাবার আঘাতে মেয়ের মৃত্যু নির্জনা খুলনা মামলা

বাবার আঘাতেই মেয়ের মৃত্যু, আদালতে মায়ের রোমহর্ষক জবানবন্দি

খুলনায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার নির্মম আঘাতে আরফানা হোসেন নির্জনা (১৭) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাবার আঘাতে মেয়ের মৃত্যু হওয়ার এই ঘটনায় খুলনাজুড়ে ব্যাপক শোক ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিহত নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

অভিযোগ উঠেছে, তার নেশাগ্রস্ত বাবা আলীম হোসেন আকাশ পারিবারিক বিবাদের একপর্যায়ে নির্জনার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে সে অচেতন হয়ে মারা গেলে, মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা নগরীর নিরালা এলাকায় ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।

নির্জনা হত্যা মামলায় মায়ের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

বাবার আঘাতে মেয়ের মৃত্যু ,মায়ের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের মা সীমা আক্তার। শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত ও নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন, যা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের জবানবন্দি রেকর্ড করার আগে ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার আইনি অধিকার সম্পর্কে অবহিত করতে বাধ্য থাকেন।

পারিবারিক কলহের প্রেক্ষাপটে বাবার আঘাতে মেয়ের মৃত্যু

সীমা জানান, অল্প বয়সে পরপর দুটি বিয়ে হওয়া এবং প্রায়ই কথার অবাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে থাকার কারণে মেয়ে নির্জনার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত ছিলেন তার নেশাগ্রস্ত পিতা আলিম হোসেন আকাশ। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে সোনাডাঙ্গা বসুপাড়ার বাসায় এই নিয়ে ফের পারিবারিক কলহ শুরু হলে রাগের মাথায় নির্জনার মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন আকাশ। এতে মুহূর্তের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নির্জনা এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পুলিশের বক্তব্য

খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. আ. সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মায়ের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বাবার আঘাতে মেয়ের মৃত্যু ,মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ

এর আগে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তার মা। নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

তদন্তে নতুন মোড়

ঘটনার পর প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নির্জনার বিয়ে হয় এবং তার স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের তদন্তের আওতায় আসেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানাতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কেএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

FAQ

প্রশ্ন: খুলনায় কার মৃত্যু হয়েছে? উত্তর: দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৭) বাবার আঘাতে মারা যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশ্ন: নিহতের মা আদালতে কী জবানবন্দি দিয়েছেন? উত্তর: ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সীমা আক্তার জানান, তার নেশাগ্রস্ত স্বামী আলীম হোসেন আকাশ পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করেন।

প্রশ্ন: অভিযুক্ত বাবা এখন কোথায়? উত্তর: নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: মরদেহ প্রথম কীভাবে উদ্ধার হয়? উত্তর: ৮ জুলাই রাতে খুলনার নিরালা এলাকায় একটি ভবনের সামনে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


ওলামা লীগ সভাপতি গ্রেফতার