নওগাঁর বদলগাছী সদর হাটে খাজনা আদায়ে সরকারি নিয়ম উপেক্ষিত, অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছী সদর হাটে সরকারি খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম , স্বচ্ছতার অভাব এবং রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দাবি, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গত দুই মাস ধরে রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি মহল হাটের খাজনা আদায় করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অধিগ্রহণকৃত বদলগাছী সদর হাট ও বাজার খাস আদায়ের আওতাভুক্ত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায়

খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি নিজেদের মতো করে অর্থ আদায় করছে। এতে প্রকৃত রাজস্ব আদায় এবং সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের বিভিন্ন অংশে কোনো সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা বা চার্ট টানানো ছিল না।

ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করা হচ্ছে এবং সরকারি নির্ধারিত হার মানা হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও এখানে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে এক মণ হিসেবে হিসাব করা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রতি মণে ২০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এক কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, “৪২ কেজিতে এক মণ ধরে এবং অতিরিক্ত খাজনা নিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

বদলগাছী হাটে খাজনা অনিয়ম

বদলগাছী হাটে খাজনা অনিয়ম , প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্তের দাবি

সরকারি কোনো মূল্য তালিকা নেই, তাই ইচ্ছামতো টাকা নেওয়া হচ্ছে।”

আরেক কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “পণ্যের দাম কম, তার ওপর অতিরিক্ত খাজনা ও ভাড়া মিলে আমরা লোকসানে পড়ছি।”

হাটে খাজনা আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবু আল আশারী নামের এক ব্যক্তি জানান,

হাটটি খাস আদায়ের আওতায় রয়েছে এবং আবু রাইহান গিটার নামের একজন ব্যক্তি ইজারা নিয়েছেন বলে তারা জেনেছেন।

তবে আবু রাইহান গিটার দাবি করেন, তিনি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের পর হাটটি ইজারা নিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এদিকে খাস আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো যাবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন জানান, হাট পরিচালনা ও ইজারা সংক্রান্ত বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি জানান, হাটে সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি ছাড়া খাজনা আদায় হচ্ছে—

এ বিষয়টি তিনি এখনই জেনেছেন এবং খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকার কথা নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।

একই সঙ্গে হাট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

SEE MORE>>>