বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পিচ ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করেই দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। ফলে সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই কয়েকটি স্থানে নতুন করে দেওয়া পিচ উঠে যাচ্ছে।

সংস্কারের পরই উঠে যাচ্ছে পিচ, বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাজ নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ও বেহাল হার্ড শোল্ডার দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও চলমান কাজে গুরুত্বপূর্ণ এসব অংশ যথাযথভাবে সংস্কার করা হচ্ছে না। এতে সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়ম, সরেজমিন তদন্ত চান স্থানীয়রা

তাঁদের ভাষ্য, নতুন করে পিচ দেওয়ার পরও কয়েকটি স্থানে তা উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সংস্কারের পর সড়কের অবস্থা আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে চালকদের অভিযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজের মান ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নমানের কাজের সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের, শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

তাঁদের আরও অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এ অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা সড়ক যদি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে না।

তাঁদের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কারকাজ শেষ দেখানো নয়, বাস্তবে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মহাসড়কের সংস্কারকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্যবহৃত পিচ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত উপকরণ এবং প্রকল্পে ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের প্রশ্ন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিম্নমানের হলে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সেটি কীভাবে অনুমোদন করছেন। আবার কর্মকর্তাদের তদারকিতে কাজ চলার পরও যদি সংস্কারের পরপরই পিচ উঠে যায়, তাহলে এর দায় কার—সে প্রশ্নেরও জবাব চান তাঁরা।

এদিকে সংস্কারকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।