বগুড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির ভিডিও দেখে স্ট্রোকে ভাতিজার মৃত্যু

বগুড়ায় চাচার দুর্ঘটনার ভিডিও দেখে স্ট্রোকে প্রাণ গেল ভাতিজার

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের চাচার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও দেখে মানসিকভাবে চরম আঘাত পান ২২ বছর বয়সী ফজলে রাব্বি। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই স্ট্রোকে ভাতিজার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন দিনমজুরকে চাপা দেয়। এই দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বানদিঘী পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূর আমিন (৩৫)। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বগুড়ার এরুলিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ঘটনাস্থল

ভিডিও দেখেই মানসিক আঘাতে স্ট্রোকে ভাতিজার মৃত্যু

দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার দুপুরের দিকে সেই ভিডিওটি দেখেন নূর আমিনের ভাতিজা ফজলে রাব্বি। ভিডিওতে চাচার ভয়াবহ আহত হওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ফজলে রাব্বির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের ভাষ্যমতে, রাব্বি আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন, যা তাঁর হঠাৎ স্ট্রোকে ভাতিজার মৃত্যুর ঘটনাকে আরও দ্রুততর করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত ফজলে রাব্বি বানদিঘী পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানীর ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে গোদারপাড়া রাবেয়া মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন।

আরও পড়ুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা ‘অটো ক্যান্সেল’, উদ্বেগে লাখো প্রবাসী

বানদিঘী পূর্বপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. সাদিকুল ইসলাম এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে বলেন, জুমার নামাজের আগে রাব্বি তাঁর দোকানে এসে মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড দিয়েছিলেন এবং চাচার জন্য দোয়া করতে বলেছিলেন। নামাজ শেষ হওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, চাচার দুর্ঘটনার ভিডিও দেখেই রাব্বি মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, একই পরিবারের ওপর এমন শোক নেমে আসবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

রাব্বির দুলাভাই মো. রাজা মিয়া জানান, রাব্বি আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন। চাচার দুর্ঘটনার ভিডিও দেখার পর তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই স্ট্রোকে ভাতিজার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনা তাঁদের পরিবার থেকে দুজনকে কেড়ে নিয়েছে — একজন এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, আরেকজন শোক সইতে না পেরে চলে গেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হোরায়রা বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকেই নয়, অনেক সময় স্বজনদের জীবনও ওলটপালট করে দেয়। তিনি এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান।

একই দুর্ঘটনায় একদিকে কয়েকজনের প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর মধ্যেই আহত চাচার ভয়াবহ অবস্থার ভিডিও দেখে ভাতিজার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আরও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একটি দুর্ঘটনার প্রভাব কীভাবে পরিবারের একাধিক সদস্যের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, এই মর্মান্তিক ঘটনা তারই এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকল।