মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রনি ওরফে রনি প্রামাণিক

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত হত্যা মামলায় রনি গ্রেপ্তার

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন রনি ওরফে রনি প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, রনি আন্তজেলা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নওগাঁর আত্রাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রনি নাটোরের উত্তর আলাইপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নামাজ আলীর ছেলে।

নওগাঁয় অলিপ দত্ত হত্যা মামলার সন্দেহভাজনকে ডিবি পুলিশের গ্রেপ্তার

AI ও ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে শনাক্ত, মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় রনি গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মহাদেবপুরে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে স্বর্ণ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত। পথে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, মহাদেবপুর থানা পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা যুক্ত হন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রতের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। দলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে।

আরও পড়ুন

বগুড়ায় ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত, বাড়ছে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ

তদন্তের একপর্যায়ে রনির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ। এরপর তার অবস্থান শনাক্ত করে আত্রাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় রনির কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি ক্যাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে তার ব্যবহৃত ৩৩ থেকে ৩৪টি সিমকার্ডের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় রনির বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অলিপ দত্ত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে রনির সংশ্লিষ্টতা শনাক্তের দাবি করেছে তদন্ত দল।

গ্রেপ্তার রনির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য এবং অলিপ দত্ত হত্যা মামলায় তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকার বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় রনিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত নতুন দিকে এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।