নওগাঁয় ৩০ বছরের কারাজীবনের অবসান—জরিমানা পরিশোধে মুক্তি পেলেন বৃদ্ধা রাহেলা বেগম নওগাঁয় ৩০ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি ঘিরে অন্ধকার জীবনের অবসান ঘটেছে এক বৃদ্ধা নারীর। মানবিক বিবেচনায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় পর মুক্ত জীবনে ফিরে আসায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯৮ সালের একটি হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন রাহেলা বেগম। রায় ঘোষণার পর থেকেই তার জীবনের বড় একটি অধ্যায় কেটে যায় কারাগারের ভেতর। স্বামী-সন্তান বা স্থায়ী কোনো পারিবারিক সহায়তা না থাকায় কারাগারই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। কারাজীবনের দীর্ঘ সময় তিনি প্রায় একাকী অবস্থায় কাটিয়েছেন। মাঝে মাঝে তার বড় বোন সাক্ষাৎ করতে এলেও অধিকাংশ সময়ই তাকে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতে হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তার যাবজ্জীবন সাজা পূর্ণ হয়। তবে মামলার সঙ্গে যুক্ত জরিমানার অর্থ অনাদায়ী থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে আরও কিছু সময় কারাগারে থাকতে হতো। নওগাঁয় ৩০ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি মানবিক বিবেচনায় জেল তহবিল থেকে জরিমানা পরিশোধ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নেয়। পরে জেল তহবিল থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা হয়, যার ফলে তার মুক্তির পথ খুলে যায়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দিঘা গ্রামে তার বড় বোনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সময় কারাবাসের কারণে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছোটবেলায় তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। দীর্ঘ তিন দশক পর তাকে ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরাও জানান, এত বছর পর তাকে ফিরে পাওয়া তাদের জন্য এক বড় স্বস্তির বিষয়। কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি মানবিক সিদ্ধান্ত ছিল। দীর্ঘ কারাবাস শেষে একজন বৃদ্ধাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। মানবিকতা ও আইনি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। সবশেষে বলা যায়, নওগাঁ জেলা কারাগার থেকে প্রায় ৩০ বছর পর জরিমানার অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রাহেলা বেগমকে মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা সমাজে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। SEE MORE>>> Post navigation ৪০ বছরে ছেলে সহ একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মা, লালপুরে অনুপ্রেরণার গল্প কোরবানির পশু কেমন হওয়া উচিত? ইসলাম যেসব নির্দেশনা দিয়েছে