নওগাঁয় গরু চোর চক্র গ্রেপ্তার

নওগাঁয় ৫ চোরাই গরুসহ গরু চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলা থেকে গরু চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা গরু চোর চক্র শনাক্ত করে তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে চক্রটির কাছ থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, চক্রটি নওগাঁসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গরু চুরি করে আসছিল।

নওগাঁয় চোরাই ৫টি গরু উদ্ধার

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কমল দোগাছি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে গোলাম রাব্বানী (৩৯), নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকার পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং একই এলাকার সুমেন রাজবংশীর ছেলে সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে একই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই চক্রের ছয় সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা পুলিশের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, রানীনগর থানা পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রথমে চক্রটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার এবং সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজন সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই। তারা চক্রটির হয়ে চুরি করা গরু নিজেদের হেফাজতে রাখার পাশাপাশি পরে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, উপজেলার গোনা এলাকায় দুটি গরু চুরির ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে একটি পিকআপ ভ্যানের সন্ধান পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে ওই গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তকারীরা চক্রটির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। এরপর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে একে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

তিনি জানান, চক্রটির মোট সদস্য সংখ্যা আটজন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গরু চুরির জন্য সম্ভাব্য স্থান ও সুযোগ খুঁজত। পরে সুযোগ বুঝে গরু চুরি করে দ্রুত অন্য এলাকায় নিয়ে যেত। চক্রটির আরও দুই সদস্য এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো শনাক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকে কেন্দ্র করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুজিত ও সুচন্দন স্থানীয়ভাবে গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। চুরি ও ডাকাতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা গরু কিছুদিন নিজেদের হেফাজতে রাখার পর তারা বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের কাছে গরু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সংঘবদ্ধভাবে গরু চুরি করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

গরু চোর চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত

পুলিশের এই অভিযানে একাধিক চোরাই গরু উদ্ধার হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে চক্রটির আরও দুই সদস্য পলাতক থাকায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, আন্তঃজেলা এই গরু চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ