নওগাঁয় রেললাইনের পাশে হজ এজেন্সি প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে নিয়ামুল বছির (৪৮) নামে এক হজ এজেন্সি প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার করেছে জিআরপি পুলিশ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে আত্রাই উপজেলার শিমুলিয়া রেলক্রসিং এলাকার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নিয়ামুল বছির রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা গ্রামের নজিবর রহমানের ছেলে। তিনি নওগাঁর একটি হজ এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ রছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিয়ামুল বছির নওগাঁ ও বাগমারা এলাকায় অফিস পরিচালনা করতেন এবং পরিবার নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার রজাকপুর এলাকায় বসবাস করতেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাগমারায় যান।

পরে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানান যে তিনি আত্রাই রেলস্টেশনে অবস্থান করছেন এবং এশার নামাজ শেষে নওগাঁয় ফিরবেন।

নিহতের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, ওই ফোনালাপের পর থেকে নিয়ামুল বছিরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

হজ এজেন্সি প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার

হজ এজেন্সি প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার : পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন রেললাইনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

পরিবারের দাবি, নিয়ামুল বছিরকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করতে পারে।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ফলে এটি ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা নয় বলে তাদের ধারণা।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

তারা বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে।

SEE MORE >>>