নওগাঁয় ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তের প্রস্তুতি পুলিশের

নওগাঁয় ধর্ষণের অভিযোগ: প্রতিবন্ধী তরুণীকে নির্যাতনের পর সালিশে ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকরঘুনাথ মধ্যপাড়া গ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শাহীন (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মাতব্বর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং যাদের বিরুদ্ধে সালিশের অভিযোগ উঠেছে, তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ওই তরুণী চকরঘুনাথ বাজারে মামার বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গলে শাহীন তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি প্রতিরোধ করতে পারেননি। পরে বাড়িতে ফিরে ইশারা ও অস্পষ্ট ভাষায় মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানান।

নওগাঁর মান্দায় শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নওগাঁয় ধর্ষণের অভিযোগ যা বলছে ভুক্তভোগী পরিবার, অভিযুক্ত ও পুলিশ

নওগাঁয় ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীর মা রোজিনা বলেন, তাঁর মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর তারা কোনো অর্থ চাননি; শুধু অভিযুক্তের বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি থানায় মামলা না করতে চাপ দেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ব্যক্তি মো. কালাম, আহাম্মদ ও শিক্ষক আফজালসহ কয়েকজন থানায় মামলা না করার পরামর্শ দেন। পরে বুধবার বিকেলে আহাম্মদের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ঘটনাটি আপস করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

ভুক্তভোগীর দাদি মোছা. আতরজান বলেন, তাঁর নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা হলেও তারা এতে রাজি ছিলেন না। পরিবারের একমাত্র দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, তিনি শুনেছেন বিষয়টি গোপনে মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযুক্ত শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী জানান, ঘটনার পর থেকে শাহিন বাড়িতে নেই এবং তাঁর মোবাইল ফোনও সঙ্গে নেই।

অন্যদিকে সালিশ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আফজাল। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর বাবা-মা তাঁদের কাছে এসেছিলেন, তবে তিনি কোনো সালিশ বা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তি মো. কালাম ও আহাম্মদ। তারা বলেন, টাকা লেনদেন বা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, তাঁর কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই নওগাঁয় ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়ার ধুনটে গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার