বাজার ছাড়িয়ে পাড়া-মহল্লায় রাজশাহীর আম, ভ্যানে ভ্যানে পৌঁছাচ্ছে মৌসুমের স্বাদ রাজশাহীর আমের দাম কম, হাতের নাগালেই মিলছে মৌসুমের সেরা ফল।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি এবং আবাসিক এলাকায় ভ্যান ও অস্থায়ী দোকানের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে রাজশাহীর বিখ্যাত আম। ফলে বাজারে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই সহজে মৌসুমের সেরা আম কিনতে পারছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যানে করে আম বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা সরাসরি বাগান বা স্থানীয় আড়ৎ থেকে আম সংগ্রহ করে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিক্রেতারাও তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন। খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের আম সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খির্সাপাত আম ৫০ টাকা, গোপালভোগ ৪০ টাকা এবং রানি আম ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে আম কিনলে আরও কিছুটা কম দামে বিক্রির সুযোগও রয়েছে। নগরীর সাহেববাজার, শালবাগানসহ বড় বাজারগুলোতে গিয়ে ভিড় ঠেলে আম কেনার প্রয়োজন না হওয়ায় সন্তুষ্ট অনেক ক্রেতা। রাজশাহীর আমের দাম কম , ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা রাজশাহীর আম খাতে। তারা বলছেন, বাসার সামনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে এবং সময় ও যাতায়াত ব্যয়ও কমছে। স্থানীয় বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, আগে আম কিনতে বাজারে যেতে হতো। এখন বাসার সামনেই ভ্যান এলে সহজে আম কিনতে পারছি। দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয়। আরেক ক্রেতা সায়েম জানান, পাড়া-মহল্লায় আম বিক্রি হওয়ায় বাছাই করে কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের তুলনায় কম দামেও আম পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরাসরি বাগান ও আড়ৎ থেকে আম সংগ্রহ করায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমে গেছে। ফলে তারা কম দামে বিক্রি করেও লাভ করতে পারছেন। আম বিক্রেতা শামিম বলেন, গোপালভোগ ও খির্সাপাতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দাম কম থাকায় অনেকেই একসঙ্গে কয়েক কেজি করে আম কিনছেন। স্থানীয় আম ব্যবসায়ীদের মতে, ভ্রাম্যমাণ এই বিক্রয় ব্যবস্থা আম বিপণনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আম দ্রুত বিক্রি হচ্ছে, অপচয় কমছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে মৌসুমি ফল কিনতে পারছেন। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ মৌসুমি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। রাজশাহীর অর্থনীতিতে আম একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উৎপাদনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। আমপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, মৌসুমের শুরুতেই রাজশাহীর সুস্বাদু আম এখন হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে। ভ্যানভিত্তিক এই বিক্রয় ব্যবস্থার কারণে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় সহজে আম কিনতে পারছেন ক্রেতারা, যা স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। SEE MORE>>> Post navigation বগুড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রিভলভার-ইয়াবাসহ আটক ৪, উদ্ধার অস্ত্র নাটোর রেলস্টেশনে চিলাহাটি এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ, কাচ ভেঙে আতঙ্ক