সরকারি গম নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নওগাঁর মদিনা ফ্লাওয়ার মিল

নওগাঁয় সরকারি গম বিক্রি করে নিম্নমানের আটা সরবরাহের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

নওগাঁয় খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ সরকারি গম বিক্রি করে নিম্নমানের আটা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তালিকাভুক্ত গম পেষাই প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য অধিদফতর।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গত ১ জুলাই খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর পাঁচ ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি পর্যালোচনার পর ১২ জুলাই উপপরিচালক মো. আফিফ-আল-মাহমুদ ভুঁঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।

অভিযোগকারীরা হলেন নওগাঁ শহরের শহিদুল ইসলাম সোহাগ, মো. সবুজ হোসেন, আলম হোসেন, আব্দুর রশিদ ও আব্দুর রকিব।

সরকারি গম নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নওগাঁর মদিনা ফ্লাওয়ার মিল

সরকারি গম বিক্রি নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করল মদিনা ফ্লাওয়ার মিল

অভিযোগে বলা হয়েছে, নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ওএমএস কার্যক্রমে গম পেষাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় শহরের ডাবপট্টিতে এবং মিলটি আরজি-নওগাঁ এলাকায় অবস্থিত।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে প্রায় ১৪৫ টন সরকারি গম খাদ্য গুদাম থেকে সংগ্রহ করে। তবে ভালো মানের ওই গম বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে অন্য উৎস থেকে নিম্নমানের গম সংগ্রহ করে তা পেষাই করে ওএমএস ডিলারদের কাছে আটা সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, আটার মান নিয়ে আপত্তি জানালে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং হুমকিও দেওয়া হয়।

গত ২৮ জুলাই আরজি-নওগাঁ এলাকায় মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলে সরেজমিনে দেখা যায়, খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা চটের বস্তাভর্তি গম আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। পাশেই প্লাস্টিকের বস্তায় মিলের নিজস্ব গম সংরক্ষণ করা ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, গুদামের সরকারি গম তুলনামূলক ভালো মানের হলেও ব্যবসার জন্য সংগ্রহ করা গমের মান অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের।

অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মো. সবুজ হোসেন বলেন, মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল থেকে সরবরাহ করা আটার মান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে চালানের মাধ্যমে প্রতি কেজি গম ১৯ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়। পরে আটা তৈরি করে ওএমএস ডিলারদের কাছে প্রতি কেজি ২১ টাকা ৫০ পয়সায় সরবরাহ করা হয়।

পাঁচবিবিতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু, পুরো গ্রামে শোকের ছায়া

তিনি আরও দাবি করেন, গুদাম থেকে সরবরাহ করা গমেই কিছু সমস্যা থাকতে পারে। ব্যবসার জন্য তারা যে আমদানিকৃত গম সংগ্রহ করেন, সেটি আরও ভালো মানের এবং দামও বেশি। তাই সরকারি গম বাজারে বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

নওগাঁ সদর উপজেলার খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলায় ওএমএসের ১২ জন ডিলার রয়েছেন, যার মধ্যে একটি বিক্রয় কেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ডিলারদের চালানের ভিত্তিতে গুদাম থেকে গম সরবরাহ করা হয়। তবে আটা কী মানের হচ্ছে, সেটি তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী বলেন, অভিযোগ তদন্তের কোনো চিঠি এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। চিঠি হাতে পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।