পত্নীতলায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

“বোরো মৌসুমে নওগাঁয় সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ শুরু, কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও ন্যায্যমূল্যের আশা”

পত্নীতলায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ঘিরে নওগাঁর পত্নীতলার  কৃষকদের মাঝে এখন চলছে ব্যস্ত সময়।
মাঠ থেকে ধান ঘরে তোলার পর কৃষকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়া।
কিন্তু বাজারে দামের ওঠানামা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং সংরক্ষণ সংকটের কারণে অনেক সময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারও কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এর মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা নির্ধারিত মূল্যে ফসল বিক্রির সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে দেশের খাদ্য মজুত শক্তিশালী হবে।
কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারলে বাজারের অস্থিরতা এবং দামের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে যায়।
বুধবার নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা-ধামইরহাট এলাকার সংসদ সদস্য এনামুল হক।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, খাদ্য বিভাগের কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকরা যেন সহজে ও হয়রানিমুক্তভাবে ধান-চাল সরকারি গুদামে দিতে পারেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পত্নীতলায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রমে কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আমিনুল কবির, নজিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সালমা সুলতানা, পত্নীতলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপ-খাদ্য পরিদর্শক কাওছার আলীসহ খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া স্থানীয় কৃষক ওয়াজেদ আলী, বিকাশ চন্দ্রসহ এলাকার সুধীজনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরকারিভাবে ৩৬ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ২৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে।
এই সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত চলবে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ থাকলে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবেন। কারণ চলতি মৌসুমে কৃষি উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপও বেড়েছে।
তাই সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম তাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করলে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেতে সহায়তা পান।
একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সব মিলিয়ে নওগাঁর পত্নীতলায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ তাদের আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করবে।

By Borsha