বগুড়ার সেঞ্চুরি মোটেলে মরদেহ উদ্ধারRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

সেঞ্চুরি মোটেলের কক্ষে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত

বগুড়ার সেঞ্চুরি মোটেলে মরদেহউদ্ধার করেছে পুলিশ। বগুড়া মহানগরীর ব্যস্ত চারমাথা এলাকায় অবস্থিত সেঞ্চুরি মোটেল থেকে বিপুল চন্দ্র পাল (৫০) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বারের সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল চন্দ্র পাল সেঞ্চুরি মোটেলের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কক্ষ ত্যাগ করেননি। এছাড়া হোটেল কর্মচারীরা বারবার দরজায় নক করেও কোনো সাড়া না পেলে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে নিশিন্দারা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিকল্প চাবির মাধ্যমে কক্ষের দরজা খোলা হয়। কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশ বিছানার ওপর বিপুল চন্দ্র পালের নিথর দেহ দেখতে পায়।

এরপর ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুলিশ কক্ষটি তল্লাশি করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেছে।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে একটি যৌন উত্তেজক সিরাপ, ঘুমের ট্যাবলেট, কোমল পানীয় এবং খাবার পানির বোতল রয়েছে।

বগুড়ার সেঞ্চুরি মোটেলে মরদেহ উদ্ধার, দেহে আঘাতের চিহ্ন নেই, স্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত পুলিশের।

তদন্তের স্বার্থে এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।

নিশিন্দারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন এবং সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, মৃত ব্যক্তির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক বা অন্য কোনো স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতায় মারা যেতে পারেন।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া পালপাড়ার বাসিন্দা এবং জীতেন্দ্র নাথ পালের ছেলে।

তিনি এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুই মেয়াদে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সাবেক জনপ্রতিনিধির এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

SEE MORE>>>

By Borsha