প্রবাসী কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক

প্রবাসী কার্ড চালুর সরকারি উদ্যোগকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার দেশ বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রবাসীদের জন্য এই প্রথমবারের মতো চালু হতে যাওয়া কার্ডটি নিয়ে দেশটিতে কর্মরত অনেকেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগামী অগাস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড  বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখছেন বাহরাইনের বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশিরা।

প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’ দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা ডুয়াল কারেন্সি সুবিধা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বুথ ও লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বাহরাইনে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা

বাহরাইন প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া

সরকারি এই ঘোষণা আসার পর পারস্য উপসাগরের তীরের দেশ বাহরাইনের মানামা ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত প্রবাসীরা তাদের প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম রাউজানের বাসিন্দা এবং বাহরাইনের একটি কার ওয়াশ কোম্পানিতে কর্মরত প্রবাসী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এই উদ্যোগ শুধু একটি কার্ড নয়, বরং প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি উদ্যোগের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের বাসিন্দা ও একটি রেন্ট-এ-কারে কর্মরত প্রবাসী আব্দুল কাদের বিগত সময়ের তুলনা টেনে জানান, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও প্রবাসীদের জন্য এমন সমন্বিত উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি।

কুমিল্লা চান্দিনার বাসিন্দা সোলাইমান, যিনি মানামা সেন্ট্রাল মার্কেট থেকে সবজি সংগ্রহ করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন, তিনিও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

কার্ডের সুবিধা কী কী

সরকারি তথ্যমতে, কার্ডধারী প্রবাসীরা যেসব সুবিধা পাবেন:

  • সরকারি হাসপাতালে বিশেষ বুথ ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় ছাড়
  • বিমানে যাতায়াত ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ডিসকাউন্ট
  • বিমা সুবিধা এবং কার্ডধারীর অকাল মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় লাশ পরিবহনের সুবিধা
  • রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্টের মাধ্যমে ক্রেডিট স্কোরিং ও সহজ শর্তে ঋণ
  • জমি রেজিস্ট্রেশন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার

বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাহরাইনে বসবাসকারী মোট প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১ দশমিক ৩ লাখ, যাদের বেশিরভাগই দেশটির বেসরকারি খাতে কর্মরত শ্রমিক। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, প্রবাসী কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও হয়রানি বন্ধে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২০০ বিদেশি আটক