মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭ দেশের ২০০ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশিসহ সাত দেশের মোট ২০০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান মালুরি রাতের বাজারে (পাসার মালাম) বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিবাসন বিভাগ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং প্রায় দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ‘অপ কুটিপ’ নামে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়া অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল)-এর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করেন।

রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় অভিযান শুরু হলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিভিন্ন দিকে পালানোর চেষ্টা করেন।

তবে আগে থেকেই কৌশলগতভাবে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের অনেককেই আটক করতে সক্ষম হন।

অভিযান চলাকালে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, রান্নার উপকরণ ও প্রস্তুত খাবার কিনতে বাজারে এসেছিলেন।

প্রতিদিনের মতো ওই দিনও বাজারটিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক ও অভিবাসীর উপস্থিতি ছিল।

কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, অভিযানে মোট ৫০০ জনের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

এর মধ্যে ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন।

যাচাই শেষে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের মোট ২০০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং ৭৫ জন নারী রয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ বিদেশি আটক ,ভিসা ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের অপব্যবহার, পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে কুয়ালালামপুর সিটি হলের (ডিবিকেএল) এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মোহদ মুজ্জামের জামালউদ্দিন বলেন, তাদের পর্যবেক্ষণে আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি ওই বাজারে ক্রেতা হিসেবেই এসেছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযান-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হামশা ইনজাউ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

শুধু অবৈধ অভিবাসী নয়, তাদের নিয়োগদাতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, দালালচক্র, এজেন্ট এবং যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহযোগিতা দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অভিবাসন আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে অভিবাসন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট এবং

অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযানের সময় কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে না হয়।

SEE MORE>>>