মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় ৪১ হাজার ৫৯৬ অবৈধ প্রবাসী আটক, জোরদার হচ্ছে ইমিগ্রেশন অভিযান

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসী আটকের অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ৭ হাজার ১০৫টি অভিযানে মোট ৪১ হাজার ৫৯৬ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৯৬ হাজার ৯৯৪ জনের পরিচয়পত্র ও অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করেছে কর্তৃপক্ষ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসী আটক: ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৯৬ জন গ্রেপ্তার

সোমবার হারিয়ান মেট্রো প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ক্লাংয়ের কাপার বেস্টারি শিল্পাঞ্চলে পরিচালিত একটি সমন্বিত আইন প্রয়োগ অভিযান পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।

তিনি জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (ATIPSOM) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (AMLA)-এর আওতায় আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা হবে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ কঠোরভাবে বাস্তবায়নে আইনে থাকা সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করবে কর্তৃপক্ষ।

জাকারিয়া শাবান বলেন, যারা এখনও অবৈধভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসী আটক এবং মানবপাচার-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে সরকার আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধকে দেশের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, ক্লাংয়ের কাপার বেস্টারি শিল্পাঞ্চলের দুটি ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৫৮ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি শ্রম বিভাগ এবং পরিবেশ বিভাগের মোট ৭৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, আটক ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অনেক শ্রমিকের কাগজপত্র তাদের নিয়োগকর্তার কাছে রাখা হয়েছে। তাই প্রত্যেকের বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে তাদের আপাতত আটক রাখা হয়েছে এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে।

অভিযানের সময় কারখানাগুলোতে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) নিয়েও তথ্য দেন জাকারিয়া শাবান। তিনি বলেন, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতো। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেলেই শ্রমিকদের লুকিয়ে ফেলা বা পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া ছিল সংশ্লিষ্টদের একটি সাধারণ কৌশল। ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে এমন ঘটনা প্রায়ই দেখা যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন,  অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং আইন ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান বা কাজ করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নওগাঁয় পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ক্ষতি প্রায় আড়াই লাখ টাকা