নওগাঁ শিশুর মৃত্যু নিয়ে মান্দায় তদন্ত করছে পুলিশ

নওগাঁয় বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, সৎমাকে ঘিরে সন্দেহ

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় তিন বছর বয়সী সোয়াদ খাঁ নামের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি বালতির পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে জানানো হলেও, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুটির সৎমাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।নওগাঁয় শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামের আলোক দুয়ারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোয়াদ খাঁ ওই গ্রামের শরিফ উদ্দিন খাঁর ছেলে।

মান্দায় বালতির পানিতে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগ

নওগাঁ শিশুর মৃত্যু নিয়ে তদন্তে পুলিশ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে সোয়াদ এবং তার বড় ভাই সৌরভকে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী মারুফা আক্তারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। ঘটনার দিন সকালে শিশুটির বাবা শরিফ উদ্দিন এবং দাদা শুকুর আলী খাঁ ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বড় ভাই তখন ঘুমিয়ে ছিল। ওই সময় বাড়িতে কেবল সৎমা মারুফা আক্তার ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে শিশুটি বালতির পানিতে পড়ে মারা গেল, তা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

প্রতিবেশী আমিনা খাতুন জানান, সকালে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দাবি, বালতির পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার মতো স্পষ্ট কোনো আলামত শিশুটির শরীরে চোখে পড়েনি। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসা বা তদন্ত সংস্থার কোনো আনুষ্ঠানিক মতামত এখনও পাওয়া যায়নি।

নিহত শিশুর স্বজন সৌখিন মীর জানান, শরিফ উদ্দিন ও তার প্রথম স্ত্রী শান্তি বেগম ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে শরিফ উদ্দিনের সঙ্গে মারুফা আক্তারের পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়। এরপর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে দুই সন্তানকে প্রথমে তাদের নানির কাছে রাখা হয়। প্রায় তিন মাস আগে শিশু দুজনকে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে নিয়ে আসা হয়। তার দাবি, বাবা ও দাদার অনুপস্থিতিতে শিশুটির এই মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। এ তার মতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মারুফা আক্তার বলেন, সকালে খালের পাশে পাটকাঠি শুকানোর কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি শিশুটিকে পানিভর্তি একটি বালতির মধ্যে দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত তুলে হাত-পায়ে তেল মালিশ করেন এবং স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, শিশুটির বাবা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকাজুড়ে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়। শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এখন সবার নজর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের দিকে।

নানা অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল