ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

প্রবাসীদের মরদেহ আনতে কোনো ভাড়া নেবে না ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অনেকেই পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে বছরের পর বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কেউ যদি প্রবাসেই মারা যান, তখন স্বজনদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা। সেই কঠিন সময়ের আর্থিক চাপ কমাতে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এখন থেকে বিদেশে অবস্থানকালে কোনো বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে আনতে বিমান ভাড়া নেবে না দেশের এই বেসরকারি বিমান সংস্থাটি।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নতুন উদ্যোগ

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি প্রবাসী পরিবারগুলোর

 বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। সেই অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র ও সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন থাকলে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরিচালিত সব আন্তর্জাতিক রুট থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মরদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেশে আনা হবে। এ জন্য কোনো ধরনের পরিবহন ভাড়া বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হবে না।

মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও বলেন, পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর বেদনা কখনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে যে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়, তা অনেক পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অন্তত সেই আর্থিক চাপ কমাতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ব্যবসা শুধু লাভ-লোকসানের বিষয় নয়; সামাজিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য জীবনভর অবদান রাখা প্রবাসীদের শেষ যাত্রায় সম্মান জানানো এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করে।

এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, বিদেশে কোনো প্রবাসীর মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ অনেক সময় পরিবারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই সিদ্ধান্ত সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমাবে এবং প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, পরিবার ও দেশের জন্য হাজারো কষ্ট সহ্য করে বিদেশে কাজ করেন তারা। এমন সময়ে দেশের একটি বিমান সংস্থা তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আবেগাপ্লুত। এটি শুধু একটি সেবা নয়, বরং প্রবাসীদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।

এভিয়েশন খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও মনে করছেন, বেসরকারি বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। তাদের মতে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই সিদ্ধান্ত কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) একটি ইতিবাচক উদাহরণ। ভবিষ্যতে অন্যান্য বিমান সংস্থাও প্রবাসীদের কল্যাণে একই ধরনের উদ্যোগ নিলে সেটি দেশের লাখো প্রবাসী পরিবারের জন্য উপকারী হবে।

যুক্তরাজ্যে আইএলআর পরিবর্তন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী ও অভিবাসীরা