নওগাঁয় যুবদল নেতার কবজি কাটার অভিযোগ

নওগাঁয় জমির বিরোধে যুবদল নেতার কবজি কাটার অভিযোগ, গ্রেফতার ২

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির আইল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবদল নেতার বাঁ হাতের কবজি কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আহত যুবদল নেতা ও তার মা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তি উপজেলার জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান রমন (৪২)। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।

অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান এবং তার স্ত্রী আমেনা বেগম। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমান ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আমেনা বেগম একই ওয়ার্ডের সভানেত্রী।

জমির আইল নিয়ে সংঘর্ষ

যুবদল নেতার কবজি কাটার অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্যে যা জানা গেল

তথ্যসূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে জমির আইল কাটা নিয়ে হাসান রমন ও মিজানুর রহমানের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় মিজানুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে কোপ দিলে যুবদল নেতার কবজি কাটা যায়। এতে তার বাঁ হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে তার মা বিউটি বেগমও হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়।

স্থানীয়রা আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত হাসান রমনের বাবা ও মামলার বাদী দুদু মিয়া বলেন, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আরো পড়ুন

বগুড়ার বাগবাড়ীতে প্রস্তুতির ব্যস্ততা: তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, তার জমির বড় আইল হাসান রমন কেটে ফেলেছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে হাসান রমন ৬ থেকে ৭ জনকে নিয়ে তার বাড়িতে হামলা করেন বলে দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমানের ভাষ্য, তার হাতে ঘাস কাটার একটি হাসুয়া ছিল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই হাসুয়ার আঘাতে যুবদল নেতার কবজি কাটা যায়। এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুবদল নেতার কবজি কাটার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।