রাজশাহীতে মা-ছেলের জিপিএ-৫

ছেলের সঙ্গে এসএসসি দিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মা-ছেলে

রাজশাহীতে মা-ছেলের জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। ছেলের সঙ্গে একই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা সাদিয়া বেগমও জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে তার ছেলে তানভীর আহমেদ পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছে ১৯ বছর আগে। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব ও সন্তানদের দেখাশোনার কারণে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাকে। তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কখনো হারাননি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বই হাতে তুলে নিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সংসার ও দুই সন্তানের দায়িত্ব সামলে প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর শুরু করেন পরীক্ষার প্রস্তুতি। চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নেন তিনি। ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ অর্জন করেন সাদিয়া।

ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে এসএসসি দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন সাদিয়া বেগম

রাজশাহীতে মা-ছেলের জিপিএ-৫, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন তানভীরের

অন্যদিকে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর পড়াশোনায় ফিরে এসে মায়ের এমন ফলাফল এবং একই সময়ে ছেলের গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরাও আনন্দিত। মা ও ছেলে দুজনের একসঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য ছিল বিশেষ এক অভিজ্ঞতা।

সাদিয়া বেগম বলেন, পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করেন।

ছেলে তানভীর আহমেদ মায়ের সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছে। তার ভাষ্য, মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মায়ের সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সবার হয় না।

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় মায়ের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছে তানভীর। সে জানায়, মা তার পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও পড়াশোনা করতেন। অনেক সময় রাত জেগে তার পাশে বসে থাকতেন।

আরও পড়ুন

গাজী নজরুল পদ হারালে এমপি নির্বাচন করবেন হিরো আলম

তানভীর নিজের এই সাফল্য বাবা-মাকে উৎসর্গ করেছে। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চায় সে।

রাজশাহীতে মা-ছেলের জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর সাদিয়ার আবার পড়াশোনায় ফিরে আসা এবং পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়া পরিবারের কাছে বিশেষ আনন্দের।

মা-ছেলের এই সাফল্যে খুশি তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামও। তিনি প্রায় চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়ানোর পাশাপাশি সাদিয়ার পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলেও দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাদিয়া। একই পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন তার সেই স্বপ্ন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে থাকল।

মায়ের এই সাফল্যে তানভীরও আনন্দিত। একই বছরে মা ও ছেলের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং দুজনেরই জিপিএ-৫ অর্জনের ঘটনা পরিবারটির জন্য নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।