বগুড়ায় স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে স্কুলছাত্রের মরদেহ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মিরাজ (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে শহরের ‘পাঁচ ভাই’ নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিরাজ শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের ইউসুফ উদ্দিন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। সে স্থানীয় ইউসুফ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় মিরাজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর মিরাজের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়; তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ, মিরাজকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল

নিহতের বড় ভাই শামীম অভিযোগ করেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার এক হিজড়ার সঙ্গে মিরাজের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময় মিরাজকে ব্ল্যাকমেইল করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যেতেন। গত বুধবার সন্ধ্যায়ও মিরাজ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল বলে জানান তিনি।

শামীমের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিই মিরাজকে বগুড়ার আবাসিক হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হলেও ঘটনার বিষয়ে এখনো পুলিশের তদন্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মিরাজের মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তবে মিরাজ কীভাবে ওই হোটেলে গেল এবং সেখানে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন

বগুড়া বিভাগ নিয়ে আলোচনা, যে কারণে রাজশাহী বিভাগেই থাকতে চান নওগাঁবাসী

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মিরাজের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে।স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগকে এখনো চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মিরাজের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই স্কুলছাত্রের মরদেহ আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার যেমন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাইছে, তেমনি পুলিশও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

মিরাজের মৃত্যুর ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।