রাজশাহী বিভাগে থাকার পক্ষে নওগাঁর অনেক বাসিন্দা

বগুড়া বিভাগ নিয়েমতভেদ, যে কারণে রাজশাহী বিভাগেই থাকতে চান নওগাঁবাসী

উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জেলা নওগাঁ দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি বগুড়া বিভাগ গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নতুন বিভাগে বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—এমন আলোচনা থাকলেও নওগাঁর অনেক বাসিন্দা রাজশাহী বিভাগের সঙ্গেই থাকতে চান। তবে আবার একটি অংশ মনে করছেন, বগুড়া বিভাগ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ নওগাঁ জেলা দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর অঞ্চল। ধান, সবজি ও আম উৎপাদনের জন্য জেলার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। গত এক দশকে আমচাষ জেলার অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদন ও বাণিজ্য জেলার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। তবে শিল্পকারখানা ও ভারী শিল্পের অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনও সীমিত। ফলে জীবিকার প্রয়োজনে অনেক মানুষকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে হয়।

বগুড়া বিভাগ গঠন নিয়ে নওগাঁবাসীর মতামত

রাজশাহী বিভাগ নাকি নতুন বিভাগ—কী চান নওগাঁবাসী

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, অতীতে নওগাঁ থেকে অনেক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও জেলার প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তাঁর মতে, শুধু বগুড়া বিভাগ গঠিত হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জেলার অধিকাংশ মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম রাজশাহীকেন্দ্রিক হওয়ায় তারা রাজশাহী বিভাগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুলও নতুন বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, নতুন বিভাগ হলে সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনিক খরচ বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। তাঁর মতে, বিদ্যমান বিভাগগুলোর উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোই বেশি জরুরি।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, রাজশাহী একটি ঐতিহ্যবাহী বিভাগ এবং নওগাঁর মানুষের সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থাকায় নওগাঁবাসী দীর্ঘদিন ধরেই এসব সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে, যার বিরোধিতা করছেন তারা।

অন্যদিকে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই মঙ্গলজনক হবে বলে তিনি আশা করেন। তাঁর মতে, নতুন বিভাগে যুক্ত হলেও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আবার নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বগুড়া বিভাগ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বগুড়ায় ধান, মসলা, আখ ও আম গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবন্দরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠলে কৃষিপণ্য রপ্তানি সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তাঁর মতে, বগুড়া ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

বর্তমানে বগুড়া বিভাগ গঠনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে এ আলোচনা ঘিরে নওগাঁসহ সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলোতে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত সামনে আসছে।

গাজী নজরুল পদ হারালে এমপি নির্বাচন করবেন হিরো আলম