বাগাতিপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, আধা ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ গেল দুজনের

একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক,আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বাগাতিপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন তার স্ত্রীও। প্রায় তিন বছর আগে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। শেষ পর্যন্ত একই দিন, অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনেরই মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পরিবার ও পুরো এলাকায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের বাটিকামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন বাটিকামারী গ্রামের মৃত আহসান সরকারের ছেলে হায়দার আলী (৭০) এবং তার স্ত্রী রহিমা বেগম।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলেও নিজের মুদিদোকানে ছিলেন হায়দার আলী। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দোকান বন্ধ করে তাকে বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

বাগাতিপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, একই রাতে পাশাপাশি দাফন করা হয় স্বামী-স্ত্রীকে

হায়দার আলীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকে ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী রহিমা বেগম। পরিবারের সদস্যদের সামনেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাগাতিপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর এই ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও শোকে স্তব্ধ হয়ে যান।

হায়দার আলীর শ্যালক মাওলানা আশরাফুল আলম জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্ট্রোকে মারা যান দম্পতির একমাত্র ছেলে জুয়েল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর থেকেই হায়দার আলী ও রহিমা বেগম গভীর মানসিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

তিনি জানান, সংসারের একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল হায়দার আলীর ছোট একটি মুদিদোকান। বয়সের ভার থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত দোকান চালাতেন। পরে তার পুত্রবধূও দোকানের কাজে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকলেও ছেলেকে হারানোর শোক তারা কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

আরও পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর কড়া বার্তা, অনুপ্রবেশ থেকে দুর্নীতি—সব ইস্যুতে কঠোর অবস্থান

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই হায়দার আলী হৃদরোগে ভুগছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। বৃহস্পতিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হলে সেই শোক সহ্য করতে না পেরে রহিমা বেগমও মারা যান।

বাগাতিপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর এই ঘটনা স্থানীয়দেরও আবেগাপ্লুত করেছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের পর একই দিনে, মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের বিদায়কে অনেকেই বিরল ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাটিকামারী সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় হায়দার আলী ও রহিমা বেগমকে। শেষ বিদায়ে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোক, দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট এবং শেষ পর্যন্ত একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু—সব মিলিয়ে এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। পরিবারের জন্য এটি যেমন এক অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি প্রতিবেশীদের কাছেও ঘটনাটি হয়ে উঠেছে এক হৃদয়স্পর্শী স্মৃতি।