নওগাঁর আরিফ উল করিম ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন

গতবার প্রিলিমিনারিতে বাদ, এবার ১৮তম বিজেএসে প্রথম নওগাঁর আরিফ উল করিম

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) সিভিল জজ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নওগাঁর আরিফ উল করিম (সিয়াম)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ফলাফলে তিনি শীর্ষস্থান অর্জন করেন।

তবে এই সাফল্যের পথটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। এর আগে ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন আরিফ উল করিম। সেবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। সেই ব্যর্থতায় থেমে না গিয়ে আবারও প্রস্তুতি শুরু করেন। পরেরবারের চেষ্টায় অর্জন করেন দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষার সর্বোচ্চ স্থান।

১৭তম বিজেএসের প্রিলিমিনারিতে বাদ পড়ার পর ১৮তম পরীক্ষায় প্রথম আরিফ

একবার প্রিলিতেই ব্যর্থ, এবার বিজেএস পরীক্ষায় সবার ওপরে আরিফ উল করিম

আরিফ উল করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি নওগাঁয়। স্নাতকে ৩ দশমিক ৬৬ এবং স্নাতকোত্তরে ৩ দশমিক ৬৪ সিজিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে আরিফ উল করিম প্রথম আলোকে বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো করার চেষ্টা করেছেন তিনি। বাবা-মা ও হবু জীবনসঙ্গীর গর্বের কারণ হওয়ার ইচ্ছা তাঁকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান আরিফ।

এত ভালো ফল করবেন, সেটি অবশ্য ভাবেননি বলে জানান তিনি। তাঁর পরামর্শ, প্রস্তুতির সময় ধৈর্য না হারিয়ে নিজের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।

দীর্ঘ এই প্রস্তুতির সময়ে শিক্ষক, বন্ধু, মা-বাবা ও হবু জীবনসঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আরিফ। নিজের শিক্ষাজীবনের একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন—সেই স্মৃতিও তাঁর মনে ছিল।

আরও পড়ুন

বগুড়ার বাগবাড়ীতে প্রস্তুতির ব্যস্ততা: তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা

আরিফ জানান, তখন থেকেই একদিন মা-বাবার গর্ব হওয়ার সংকল্প করেছিলেন। এবার ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর আবারও মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের গর্ব হতে পারাটাকেই জীবনের অন্যতম পাওয়া হিসেবে দেখছেন আরিফ।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জন্যও আরিফের এই সাফল্য তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর বাদে টানা চারবার বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এবারও শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন একই বিভাগের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু প্রথম আলোকে বলেন, আরিফ ভালো ছাত্র ছিলেন এবং পরিশ্রম করেছেন। তাঁর সাফল্য সেই পরিশ্রমের ফল। বিভিন্ন ব্যাচ থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থীর সাফল্যের খবর আসছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুর ভাষ্য, আরিফের এই ফলাফল আইন বিভাগ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আনন্দের এবং গর্বের বিষয়।

বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার মধ্য দিয়ে দেখালেন, একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতা পরবর্তী সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতেই হবে—এমন নয়। ১৭তম বিজেএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হতে না পারার পরও প্রস্তুতি অব্যাহত রেখে ১৮তম পরীক্ষায় তিনি শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন।

নওগাঁর এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে তাঁর পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগও তাঁর এই অর্জনকে বিভাগের জন্য আনন্দের সংবাদ হিসেবে দেখছে।