নাটোর আগুনে চারজনের মৃত্যুRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

আগুনে স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু, তিন বছর পরও হত্যা সন্দেহে উত্তাল গ্রাম

নাটোরে আগুনে চারজনের মৃত্যু ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

এ দাবির পক্ষে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার খাকসা গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।

মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে রাজ্জাক মোড় এলাকায় একটি জ্বালানিবাহী লরি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে অকটেন সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাতেই তার ঘরে আগুনের ঘটনা ঘটে।

এতে তার স্ত্রী সুমা খাতুন (৩২), মেয়ে অমিয়া আফরিন মাহী (১০) এবং ছেলে ওমর ফারুক (৪) প্রাণ হারান।

একই সঙ্গে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে দগ্ধ হন পরিবারের বন্ধু আনোয়ার হোসেন, যিনি পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, আগুনের ঘটনায় পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারালেও একই ঘরে অবস্থানকারী স্বামী অক্ষত থাকায় শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন এবং কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়, যা স্বজনদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

নাটোরে আগুনে চারজনের মৃত্যু ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

তাদের দাবি, ওই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্ত্রী ও সন্তানদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

এসব তথ্য ও পরিস্থিতির কারণে তারা ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাই পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, অভিযুক্তের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক বাটুল, সমাজসেবক জরিপ মণ্ডল, মধু প্রামাণিক ও আব্দুস সামাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা উচিত।

তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান। এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রহস্যের পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

SEE MORE>>>

By Borsha