পলিথিনের ঝুপড়িতেই জীবনযুদ্ধ, নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় দিলিপ সাধুর পরিবার নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামের একটি জরাজীর্ণ পলিথিনের ঝুপড়িতে দিলিপ সাধুর মানবেতর জীবন যাপন করছেন । মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে বছরের পর বছর ধরে ঝড়, বৃষ্টি, শীত ও প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটছে তার পরিবারের। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিঠাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জগপাড়া গ্রামের মৃত দেবেন্দ্রনাথ মণ্ডলের একমাত্র ছেলে দিলিপ সাধুর বসবাস একটি অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরে। কয়েকটি বাঁশের খুঁটির ওপর টুকরো টুকরো পলিথিন, কলাপাতা ও পুরোনো সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আশ্রয়স্থলটি। ঘরের মেঝে কাঁচা এবং সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো ঘর ভিজে যায়। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বসবাস করলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান দিলিপ সাধু বিয়ের পর নানা পারিবারিক ও মানসিক সমস্যার কারণে স্থায়ীভাবে সংসার গুছিয়ে নিতে পারেননি। পরে তিনি পৈত্রিক ভিটায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সাধু গান পরিবেশন এবং বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। তবে অনিয়মিত ও স্বল্প আয়ের কারণে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দিলিপ সাধুর মানবেতর জীবন , নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে ঝুঁকিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ দিলিপ সাধু বলেন, “দিন আনি দিন খাই। গান গেয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা করাতেও কষ্ট হয়। ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই। কেউ সহযোগিতা করলে অন্তত থাকার মতো একটি ঘর করতে পারতাম।” স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী বিকাশ বলেন, “বর্ষা মৌসুমে এই ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টকর। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। অনেক সময় পরিবারটির খাবারেরও সংকট দেখা দেয়। সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তাদের জন্য একটি বাসযোগ্য ঘর নির্মাণ করা সম্ভব।” আরেক বাসিন্দা শ্রী ভবেশ জানান, “দিলিপ সাধুর অবস্থা সত্যিই করুণ। আমরা স্থানীয়ভাবে কিছু করার চেষ্টা করছি। কিন্তু বড় ধরনের সহায়তা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে পরিবারটির জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে।” স্থানীয়দের মতে, আধুনিক সভ্যতার এই সময়ে একটি পরিবার এমন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। দিলিপ সাধুও আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো একদিন সমাজের মানবিক মানুষ কিংবা সরকারি কোনো সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে তার পরিবার একটি নিরাপদ ঘর পাবে। সেই আশাতেই প্রতিদিন সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। SEE MORE>>> Post navigation নওগাঁর রাণীনগরে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই যুবক আহত, একজনের অবস্থা গুরুতর বগুড়ায় টনসিল অপারেশনের পর গৃহবধূর মৃত্যু, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ