H-1B ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে মার্কিন আদালত

H-1B ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত খারিজ, ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল মার্কিন আদালতে

বিদেশি দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম প্রধান পথ H-1B ভিসা। এই ভিসার আবেদন ফি এক ধাক্কায় ১ লাখ মার্কিন ডলার করার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন আদালত। আদালতের রায়ে এই বিপুল H-1B ভিসা ফি আরোপের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত বলা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সাম্প্রতিক রায়ে বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে নতুন H-1B ভিসার ওপর ১ লাখ ডলারের ফি কার্যকর রাখার সরকারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালত এই ফি বাতিল করে রায় দিয়েছিল।

H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল

কেন বাতিল হলো H-1B ভিসা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত?

আদালতের মূল বক্তব্য, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা যায় না। বিচারকদের মতে, ১ লাখ ডলারের এই অর্থ শুধু সাধারণ ভিসা ফি নয়; এর প্রকৃতি অনেকটা করের মতো। আর এ ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী শাখার নেই।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্য আদালতে মামলা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, এত বেশি H-1B ভিসা ফি চালু হলে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ প্রদানের নিয়ম চালু করেছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এই নীতির মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার কমানো এবং মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ রক্ষা করা যাবে।

তবে নতুন নিয়মটি ঘোষণার পর থেকেই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। তাদের দাবি ছিল, এত বেশি H-1B ভিসা ফি বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেবে।

আগে নতুন H-1B আবেদন করতে সাধারণত কয়েক হাজার ডলারের বিভিন্ন ফি দিতে হতো। সেখানে একবারে ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত অর্থ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়োগদাতাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে।

H-1B ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ ও পেশাজীবীরা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় প্রকৌশলী ও দক্ষ কর্মী এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করেন।

ফলে H-1B ভিসা ফি ১ লাখ ডলার করার সিদ্ধান্তে ভারতীয় পেশাজীবী ও তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আদালতের রায়ের পর তাদের ওপর থেকে সেই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমেছে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই রায়ে স্বস্তি পেয়েছে। এসব খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে H-1B ভিসার ওপর অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ভর করে।

মার্কিন প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আপিল চলাকালে ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি কার্যকর রাখার আবেদনও আদালত নাকচ করেছে। ফলে আপাতত নতুন H-1B ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এই বিপুল অর্থ আদায়ের নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের H-1B ভিসা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু H-1B ভিসার ফি নিয়ে নয়, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

তবে এই আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী সময়ে উচ্চতর আদালতে আবেদন করলে বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। ফলে H-1B ভিসা ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সামনে আরও আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাণীনগর টিটিসির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন