আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভবনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, শাশুড়ি-জামাইকে ঘিরে বিতর্ক

নওগাঁ শহরের কুমাইগাড়ী এলাকায় জেলা জজকোর্ট চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্থানীয়দের দাবি, বিচারাধীন একটি জমি ও ভবন-সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমাইগাড়ী এলাকার নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর একটি পরিচিত পরিবারের মা ও ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে, যা বর্তমানে একাধিক মামলায় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, পরিবারটির মা বিলকিস আক্তার এবং তার ছেলে জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধকে কেন্দ্র করে।

স্থানীয়ভাবে আরও দাবি করা হয়, পারিবারিক এই বিরোধে জামাতা ডা. আবুজার গাফ্ফারের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।

জানা গেছে, জেলা জজকোর্টের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই ভবনকে কেন্দ্র করে বিলকিস আক্তার নওগাঁর এডিএম আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ওই স্থানে কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

নওগাঁ আদালতের নির্দেশ অমান্য অভিযোগ

নওগাঁ শহরের কুমাইগাড়ী এলাকায় আদালতের নির্দেশ অমান্য অভিযোগ ,জমি বিরোধে দীর্ঘদিনের মামলা

পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন।

সূত্র জানায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত পূর্বের নির্দেশ স্থগিত রেখে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্ধারিত শুনানির তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সৌরভের অভিযোগ অনুযায়ী, বিলকিস আক্তার ও তার জামাতা ডা. আবুজার গাফ্ফারের উপস্থিতিতে ভবনের কাজ চলমান রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সামছুর নামের এক ব্যক্তি জানান, বিলকিস আক্তার ও ডা. আবুজার গাফ্ফারের নির্দেশেই তিনি কাজ পরিচালনা করছেন।

আদালতের বিষয়টি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কাজ কেন চলছে—এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে বিলকিস আক্তার দাবি করেন, তিনি প্রথমে ১৪৪/১৪৫ ধারা অনুযায়ী আদালতে আবেদন করেছিলেন এবং সেই আদেশের ভিত্তিতেই কাজ করা হচ্ছিল।

পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ উচ্চ আদালতে আবেদন করলে বিষয়টি গ্রহণ করা হয়, তবে এখনো নতুন কোনো শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়নি বা কোনো নোটিশ পাননি বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রশ্ন তুলতে পারে।

এলাকাবাসীর আশা, আদালতের পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই পারিবারিক ও

সম্পত্তি বিরোধের আইনি সমাধান হবে এবং পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

SEE MORE>>>