নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে প্রতারণা, এআই প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার মূল হোতা নাইম নওগাঁয় ডিসি-এসপি এবং বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. নাইম হোসেন (২৮) নামে এক প্রতারণা নওগাঁয় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের মোট ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর বিক্রি করা ওষুধ সেবনের পর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা এড়াতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে ব্যবসায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার ৩০০ টাকা একটি নগদ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। এর মাত্র পাঁচ দিন পর একই ব্যক্তি নিজেকে সিআইডির একজন এসপি পরিচয় দিয়ে আরেক ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যবসায়ীর দোকানের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। পরে মামলা ও আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ধরনের একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে নওগাঁ জেলা পুলিশ। নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে প্রতারণা , জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি গ্রেপ্তারকৃতের। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তের এক পর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সান্তাহার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাইম হোসেনকে আটক করা হয়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি, থানা পুলিশের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রতারক চক্রটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে এবং যাচাই ছাড়া কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে। SEE MORE>>> Post navigation এআই ট্রাফিক নজরদারি ফাঁকি দিতে নম্বরপ্লেট ঢেকে চলাচল, যুবকের কারাদণ্ড নওগাঁ সদরে হাসুয়াসহ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার আইনে মামলা