ইমামের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

ইমামের বিরুদ্ধে কিশোরকে বলাৎকারের অভিযোগ, নওগাঁজুড়ে তোলপাড়

নওগাঁ সদর উপজেলার একটি মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের এক কিশোরকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের পার-বোয়ালিয়া পলিপাড়া এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, প্রায় দেড় বছর ধরে পার-বোয়ালিয়া পলিপাড়া গ্রামের একটি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন গোলাম রাব্বানী (৪৫)।
এই সময়ে ভুক্তভোগী কিশোর নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় করত এবং বিভিন্ন সময় ইমামের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করত।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ঈদ-উল-ফিতরের কয়েকদিন পর ইমাম গোলাম রাব্বানী কিশোরটিকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকার সুযোগে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।
এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করা হতে পারে বলেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ঘটনার পর থেকে কিশোরটির আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়।
সে আগের মতো মসজিদে যেত না, ইমামের সঙ্গেও মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার জানতে চাইলে প্রথমদিকে সে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

ইমামের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ, পরিবারের চাপে মুখ খুলল কিশোর, সামনে এলো বিস্তারিত

পরে পরিবারের চাপের মুখে সে পুরো ঘটনা খুলে বলে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
রোববার (৩১ মে) জোহরের নামাজের পর কিশোরের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত ইমামের কাছে বিষয়টির সত্যতা জানতে চান।
এ সময় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয় এবং ইমামের পরিবারের সদস্যদেরও সেখানে ডাকা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক বিবেচনার বিষয়টি সামনে এনেছেন বলে জানা গেছে।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাটি পাশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানা এলাকায় ঘটেছে।
ফলে ভুক্তভোগী বা তার পরিবার চাইলে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
ঘটনার সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী কার্যক্রম।
বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

By Borsha