পারিবারিক বিরোধের জেরে নওগাঁয় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা  এলাকায় চাঞ্চল্য

পারিবারিক বিরোধের জেরে নওগাঁয় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এরই মধ্যে নিহত গৌর চন্দ্রের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বদলগাছীর একটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি তিনি ওমিনি চন্দ্রের ছেলে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় তার ছেলে পলাশ গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই গৌর চন্দ্রের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক কলহ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই গৃহবধূ নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন।
ঘটনার আগের দিন তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং রাতভর ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি জানার পর মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরদিন দুপুরে গৌর চন্দ্র তার ছেলে ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান।
প্রথমে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে গৌর চন্দ্রকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
তিনি প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে দৌড় দেন, কিন্তু সেখানেও হামলার শিকার হন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সময় তার ছেলে পলাশ বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল-এ নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে গৌর চন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।পলাশ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শ্বশুরবাড়ির হামলায় বাবা নিহত ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিরোধের এমন ভয়াবহ পরিণতি প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
তারা গৃহস্থালি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক কলহ যখন দীর্ঘদিন ধরে চলে এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না, তখন এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক পরামর্শ কেন্দ্র সক্রিয় করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, পারিবারিক বিরোধ কখনো অবহেলার বিষয় নয়—সময়মতো সমাধান না হলে তা প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

By Borsha