রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড়ও শিলাবৃষ্টি, আমসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়ে রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! বিকেলের দিকে আকাশে ঘন মেঘ জমে ওঠার পর দমকা হাওয়া শুরু হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়। প্রথমে সাধারণ বৃষ্টি মনে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী এই দুর্যোগে মাঠে থাকা কৃষকরা মারাত্মক বিপাকে পড়েন। অনেকেই তখন জমিতে কাজ করছিলেন—কেউ ফসল কাটার প্রস্তুতিতে, আবার কেউ পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন। আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এতে অনেক জমির ফসল খোলা অবস্থায় ক্ষতির মুখে পড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গমের ক্ষেত। পাকার মুখে থাকা গমের শীষ শিলার আঘাতে ঝরে গেছে এবং অনেক ক্ষেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভুট্টা, মরিচ এবং পেঁয়াজের বীজ কদমসহ অন্যান্য ফসলেও ব্যাপক ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। জমিতে জমে থাকা পানিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সার, সেচ এবং শ্রমিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা আগে থেকেই চাপে ছিলেন। এর মধ্যে এই আকস্মিক দুর্যোগ তাদের জন্য নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজ চাষি জলিল বলেন, তার জমির অনেক পেঁয়াজ এখনো তোলা হয়নি এরমধ্যেই রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড় শিলাবৃষ্টির কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে কৃষক মো. আলম জানান, তার পেঁয়াজের বীজ প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে আম চাষিরাও ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। মৌসুমের শুরুতেই গাছে আসা ছোট ছোট আমের গুটি ঝরে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। এতে সম্ভাব্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন আকস্মিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই কৃষকদের জন্য আগাম সতর্কতা, ফসল বীমা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজশাহীর কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়লেও সবাই আশা করছেন, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং সহায়তা কার্যক্রম শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। SEE MORE>>> Post navigation রাজশাহীতে ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম Tensions Escalate in the Middle East: Israel Strikes Lebanon, Iran Opposes Peace Talks