নওগাঁর সাপাহারে সমবায় সমিতির প্রতারণা করার অভিযোগ, গ্রাহকদের মানববন্ধন নওগাঁর সাপাহারে সমবায় সমিতির প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে সমবায় সমিতির গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী। একপর্যায়ে সমিতির অফিস বন্ধ হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে শতাধিক গ্রাহক মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সমিতির এমডি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় তাদের সঞ্চয় সেখানে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কর্মকর্তারা হঠাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যান। নওগাঁর সাপাহারে সমবায় সমিতির প্রতারণা করার বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তাদের কয়েক কোটি টাকা সমিতিতে আটকে রয়েছে। কেউ অবসর ভাতা, কেউবা সংসারের সঞ্চয় এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জানান, তিনি তার অবসর ভাতার একটি বড় অংশ এখানে জমা দিয়েছিলেন। একইভাবে এক বিধবা নারী জানান, সংসার চালানোর জন্য জমা রাখা অর্থ এখন আটকে থাকায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে সাপাহার থানার ওসি জানিয়েছেন, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু করা হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা গ্রামীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা রোধে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সবশেষে, নওগাঁর সাপাহারে সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ওঠা এই প্রতারণার অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। SEE MORE>>> Post navigation নওগাঁর মান্দায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিএনপি নেতার নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা নওগাঁয় ৮৫টি হারানো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর