শেরপুরে ২০৫০ লিটার ডিজেল জব্দ

শেরপুরে জ্বালানি তেল মজুত ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে অভিযান—২,৫০০ লিটার ডিজেল জব্দ ও জরিমানা

বগুড়ার শেরপুরে ২০৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করে জ্বালানি তেল বাজারে অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও ভোক্তাদের মধ্যে ডিজেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও সাম্প্রতিক এই অভিযানে সেই অনিয়মের চিত্র স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সেচ কার্যক্রমের জন্য ডিজেলের চাহিদা অত্যন্ত বেশি।
ফলে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি উৎপাদনে।
এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন বাজার তদারকি জোরদার করে এবং নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বিশালপুর ইউনিয়নের রানীরহাট বাজারে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত এই অভিযানে একটি জ্বালানি তেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—মেসার্স বিমল ট্রেডার্সে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ডিজেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

শেরপুরে ২০৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করে কৃষকদের স্বার্থে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্বপন চন্দ্র মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়িক নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় আইন অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনোভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বাজারে ডিজেলের ঘাটতির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি পাওয়ায় সন্তোষ জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কৃষি উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, শেরপুরে পরিচালিত এই অভিযান জ্বালানি খাতে অনিয়ম রোধে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা।
এর মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

By Borsha