মর্টার শেল উদ্ধার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাটি খননে উদ্ধার পুরোনো মর্টার শেল নিষ্ক্রিয়, ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফিরে আসে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাটি খননের সময় একটি পুরোনো মর্টার শেল উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে সেটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা হলে পুরো এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট সংস্কার কাজ চলাকালীন শ্রমিকরা মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান।
বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।
প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে দুপুরের দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
তারা মর্টার শেলটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।
পরে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি এলাকা-এর পেছনের একটি ফাঁকা জায়গা নির্বাচন করা হয়, যেখানে শেলটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মর্টার শেল উদ্ধার পরবর্তী সময়ে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা জারি করা হয়।

বিশেষ করে পাশের রেললাইনকে বিবেচনায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পুরো অভিযানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মর্টার শেলটি অত্যন্ত পুরোনো এবং মরিচা ধরা অবস্থায় ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কোনো অবশিষ্ট যুদ্ধাস্ত্র হতে পারে।
তবে সুনির্দিষ্টভাবে এর উৎস ও সময়কাল নির্ধারণে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।
এখানে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান ছিল। সেই ইতিহাস বিবেচনায় এটি সেই সময়ের কোনো যুদ্ধাস্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিহার জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম জানান, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের উপস্থিতিতে মর্টার শেলটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করেন।
এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ঘটনাটি ঘিরে কিছু সময়ের জন্য ক্যাম্পাসে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শেষ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের পাশে মাটি খননের সময় পাওয়া মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করার ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফিরে আসে।

By Borsha