নওগাঁয় কৃষি জ্বালানি কার্ড

নওগাঁয় কৃষি জ্বালানি কার্ডে স্বস্তি পেল বোরো চাষিরা, তবে ন্যায্য দামের দাবি জোরালো

বোরো মৌসুমে ধান কাটা, পরিবহন ও মাড়াই কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে কৃষকদের জন্য নওগাঁয় কৃষি জ্বালানি কার্ড চালু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি তেল সহজেই সংগ্রহ করতে পারছেন, যা দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।

কৃষি নির্ভর এই জেলায় বর্তমানে ইরি-বোরো ধান পুরোপুরি পাকতে শুরু করেছে। সোনালী ধানের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

তবে বৈশ্বিক কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকরা চরম সমস্যার মুখে ছিলেন।

অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ ছিল নিয়মিত।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে কৃষি জ্বালানি কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক তার জমির পরিমাণ ও কৃষিকাজের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ ডিজেল পাচ্ছেন।

কৃষকরা কার্ড নিয়ে নির্ধারিত পাম্পে গিয়ে সহজেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন, ফলে কৃষি কার্যক্রম অনেকটাই সহজ ও গতিশীল হয়েছে।

তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে।

নওগাঁয় কৃষি জ্বালানি কার্ড, স্বস্তি ফিরলেও খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা কৃষকের।

অনেক কৃষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ধানের ন্যায্য দাম না পেলে এবার তারা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

তারা সরকারের কাছে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

রাণীনগরের কৃষক মোস্তাক আহমেদ বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে এখন সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে, এটি বড় স্বস্তি।

তবে খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। তিনি ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কৃষি জ্বালানি কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং কৃষকদের হয়রানির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, কৃষি জ্বালানি কার্ড ব্যবস্থা নওগাঁর বোরো চাষিদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

তবে উৎপাদন খরচ ও ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এখনো কৃষকদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

SEE MORE>>>

By Borsha