রাজশাহীতে বিস্ফোরক মামলা

রাজশাহীর বিস্ফোরক মামলায় চার বছর আগে নিহত কিশোরের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, তদন্তে উঠেছে প্রশ্ন

রাজশাহীতে একটি বিস্ফোরক মামলাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
মামলায় এমন এক কিশোরের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যিনি চার বছর আগেই নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইন প্রয়োগ ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৪ এপ্রিল বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় রাজশাহীর সিরোইল বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় পুনর্দখলকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বাদী শাজাহান আলী এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করেন।
মামলার ১ নম্বর আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার ছেলে সানির নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সানি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
স্থানীয় সূত্র ও পূর্বের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত সানি চার বছর আগেই নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, ২০২২ সালের ৩ জুলাই রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সে সময় তিনি একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যু তখন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।

বিস্ফোরক মামলায় মৃত কিশোর আসামি ।এলাকায় প্রতিক্রিয়া।

এ ঘটনায় নতুন করে মামলায় তার নাম আসায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বিষয়টিকে প্রশাসনিক অবহেলা ও তদন্তের দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, একজন মৃত ব্যক্তির নাম মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া গুরুতর ভুল।
এটি যাচাই-বাছাই ছাড়া মামলা গ্রহণের একটি উদাহরণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিস্ফোরক মামলায় মৃত কিশোর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি এখন তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

By Borsha