প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্তRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের অমানবিক শাস্তির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত

বগুড়া জেলার বগুড়া সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খায়।
বিষয়টি পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নজরে এলে তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে জানা যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন বিকেলে চতুর্থ শ্রেণির দুইজন ও পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ‘আম চুরির’ অভিযোগ এনে বেত্রাঘাত করা হয়।
এরপর আরও গুরুতর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং শরীরে ‘আমচোর’ লেখা কাগজ সংযুক্ত করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও চত্বর ঘুরানো হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
তারা বলেন, শিশুদের প্রতি এ ধরনের আচরণ অমানবিক এবং শিক্ষা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা ও সাময়িক বরখাস্তের সম্ভাবনা নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু

অনেক অভিভাবক দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে এলে ৩ মে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়।
তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য গ্রহণ করে।
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।
Directorate of Primary Education Bangladesh-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক শাস্তির পরিবর্তে ইতিবাচক শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে।
সবশেষে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

By Borsha