মা ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষাRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

লালপুরে বয়সকে হার মানিয়ে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় মা ফুলঝুরি বেগমের অনন্য দৃষ্টান্ত

 জীবনের নানা সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আর্থিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে মা ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে নাটোরের লালপুরে।
বয়স বা সামাজিক বাধা যে ইচ্ছাশক্তির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তারই বাস্তব প্রমাণ দিয়েছেন ফুলঝুরি বেগম।
গ্রামের সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নারী ছোটবেলায় বিয়ের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
তবে বহু বছর পর সংসার, সন্তান লালন-পালন এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও তিনি আবার বই-খাতা হাতে তুলে নিয়েছেন।
জানা যায়, ফুলঝুরি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম পেশায় ভ্যানচালক এবং কখনো দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।
সীমিত আয়ের সংসারে পরিবার পরিচালনার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্বও তারা একসঙ্গে পালন করেছেন।
তাদের বড় মেয়ে ইতোমধ্যে নার্সিং শেষ করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন, যা পরিবারে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
ফুলঝুরি বেগম জানান, ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করার, কিন্তু বাস্তবতার কারণে তা পূরণ হয়নি।
পরে সন্তানদের উৎসাহে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। তার ভাষায়, “ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল এসএসসি পরীক্ষা কেমন হয়, সেটা দেখার।

মা ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা | ছেলের অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা

আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।” তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রামের অনেকেই তার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি এবং নানা ধরনের সমালোচনাও করেছে।
কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি নিজের লক্ষ্যেই অটল থেকেছেন।
সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক বিষয় হলো, তার ছেলে মনিরুল ইসলামও একই সঙ্গে তার মায়ের সঙ্গে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
সে জানায়, মায়ের সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তার জন্য গর্বের বিষয় এবং এটি তাকে আরও দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
বর্তমানে মা-ছেলে দুজনই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হিসেবে মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং সমাজের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা—শিক্ষার কোনো বয়স নেই।
ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, নাটোরের লালপুরে ৪০ বছর বয়সী ফুলঝুরি বেগম তার ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে একটি বিরল ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা অনেকের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাবে।

By Borsha