ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই যুবক আহতRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে হামলা, মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ছিনতাই ও ছুরিকাঘাত

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই যুবক আহত হয়েছেন।
হামলাকারীরা তাঁদের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আবাদপুকুর–রাণীনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের খলিশাকুড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন উপজেলার খাগড়া গ্রামের সিরাজুল মণ্ডলের ছেলে আব্দুল খালেক মণ্ডল (৪০) এবং একই গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে সাহাবুল হোসেন (৩২)।
ভুক্তভোগী সাহাবুল হোসেন জানান, রোববার রাতে তারা মোটরসাইকেলে করে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান।
অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে খলিশাকুড়ি মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
তার দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে তাঁদের চোখে ও মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
পরে হামলাকারীরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলের চাবি নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দিতে গেলে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়।

ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই যুবক আহত ,স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার, রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর।

সাহাবুল হোসেন আরও জানান, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আব্দুল খালেক মণ্ডলের পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়।
তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন এবং আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা আব্দুল খালেকের অবস্থার অবনতি দেখতে পেয়ে সোমবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসেছিল এবং তাদের সংখ্যা ৬ থেকে ৭ জন হতে পারে।
তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিনতাই নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত হামলা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ কারণে তদন্তের আগে কোনো নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে চান না স্থানীয়রা।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের বেলায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
রাণীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুলফিকার বলেন, আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

By Borsha