ঈদের ছুটিতে উধাও সমবায় প্রতিষ্ঠান, নওগাঁয় ৩০০ গ্রাহকের ৪ কোটি টাকার আমানত অনিশ্চয়তায় নওগাঁয় সমবায় প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম হতাশা । নওগাঁ সদর উপজেলার ধামকুড়ি গ্রামে অবস্থিত সমবায়ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে প্রায় তিন শতাধিক গ্রাহকের চার কোটি টাকার বেশি আমানত নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় আমানতকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির সুযোগে কার্যক্রম গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ধামকুড়ি গ্রামে অবস্থিত ‘উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সঞ্চয়, ডিপিএস এবং বিভিন্ন ধরনের আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার বহু মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ এলাকার সহজ-সরল মানুষদের অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে। প্রতি এক লাখ টাকায় মাসিক বা নির্ধারিত সময় শেষে আকর্ষণীয় লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমানত গ্রহণ করা হতো। ফলে মেয়ের বিয়ে, সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেকেই তাদের সঞ্চিত অর্থ প্রতিষ্ঠানটিতে জমা রাখেন। ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান জানান, তিনি একজন প্রবীণ ফল বিক্রেতা। নিজের এবং প্রতিবন্ধী স্ত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পাঁচ বছর আগে প্রায় তিন লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। প্রথম দিকে কিছু লভ্যাংশ পেলেও পরে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। নওগাঁয় সমবায় প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ , প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান ভুক্তভোগীরা একই গ্রামের বাসিন্দা সীমা বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের প্রতি ব্যক্তিগত আস্থার কারণে তিনি দুই লাখ টাকা আমানত রেখেছিলেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য অর্থ সঞ্চয় করলেও এখন সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আরেক ভুক্তভোগী মারুফা বিবি জানান, তিনি সাত বছর আগে ৭০ হাজার টাকা জমা রাখেন। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করলে নানা জটিলতার মুখে পড়েন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আংশিক অর্থ পেলেও বাকি টাকা আর ফেরত পাননি। স্থানীয়দের ভাষ্য, করোনা মহামারির পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যায়। গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ চললেও নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানও স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করে পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। রোববার সরেজমিনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাড়িতেও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নওগাঁ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির একটি অডিট বা পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিলের জন্য সম্প্রতি নোটিশ জারি করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা আত্মগোপনে গেছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দেননি বলে তিনি জানান। এদিকে তিন শতাধিক গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকার আমানত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ও সমবায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। SEE MORE>>> Post navigation বগুড়ায় টনসিল অপারেশনের পর গৃহবধূর মৃত্যু, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ বগুড়ার ধুনটে যুবলীগ নেতার স্ত্রীর কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার